News

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ৬২ প্রবাসী শিক্ষার্থীর বিবৃতি

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং তাদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত দেশের প্রবাসী শিক্ষার্থীরা। তারা বলেছেন, এসব ঘটনায় বিদেশে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তথা বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক। শনিবার (১৪ জুলাই২০১৮) ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি ৬২ শিক্ষার্থী গণমাধ্যমে এ বিবৃতি পাঠিয়েছেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘ন্যায্যতা ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কোটা সংস্কার যৌক্তিক একটি দাবি। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছে।  এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন আন্দোলনকারীরা প্রেস কনফারেন্স করতে গেলে বিনা উস্কানিতে আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়কসহ আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। এমনকি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়াতেও বাধা দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদের দমন-পীড়ন এবং কোটা সংস্কারপন্থী আন্দোলনের নেতাদের জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। চলমান এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলোর কোন কার্যকরী ইতিবাচক ভূমিকা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি।

অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনেককে পুলিশ গ্রেফতার ও হয়রানি করছে। এমনকি নেতাদের রিমান্ডে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এবং অভিভাবকেরা এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিপীড়িত হয়েছেন। পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে উপরোল্লিখিত ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এসব দমন-পীড়নের ঘটনা দিয়ে আমরা বহির্বিশ্বে পরিচিত হতে চাই না। এসব ঘটনার কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তথা বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক।

আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস প্রত্যেক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের জন্য নিরাপদ আশ্রয়। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ক্যাম্পাসে দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করা জরুরি। আমরা সরকারকে দ্রুত চলমান অবস্থার যৌক্তিক সমাধানের আহ্বান জানাই এবং একইসঙ্গে সব আক্রান্ত শিক্ষার্থীর অবিলম্বে সুচিকিৎসা, গ্রেফতারকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া এবং যারা এসব বর্বরোচিত হামলা করেছে তাদের উপযুক্ত শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে প্রবাসে পড়ুয়া ৬২ শিক্ষার্থীর বিবৃতি

বিবৃতি দেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন অনির্বাণ ইসলাম, ইউনির্ভাসিটি অফ লাইপসিস, জার্মানি; ফয়সাল বিন তৌহিদ সিদ্দিকী, গেন্ট ইউনিভার্সিটি, বেলজিয়াম; মেহজাবিন হোসেন, ইরাস্মাস ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টার, নেদারল্যান্ডস; পারভেজ আলম, ইউনিভার্সিটি অফ আমস্টার্ডাম, নেদারল্যান্ডস; মো: তসলিম মাহমুদ, মনাশ ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া; আবু আশিক মো. ইরফান, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; মঈনুল হোসেন রাহাত, ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র; ইফতে চঞ্চল, ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র; নুসাইবা জামান,ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র; রোমান সরদার, ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ডাকোটা, যুক্তরাষ্ট্র; নাজমুস সাকিব,  ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনা, যুক্তরাষ্ট্র; মো. তমাল হোসেন, ইউনিভার্সিটি অফ ইউটা, যুক্তরাষ্ট্র; আরাফাত রহমান, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া রিভারসাইড, যুক্তরাষ্ট্র; ডালিম মিয়া, টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; মো. শরীফ উল্লাহ্, ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র;  মো. নিজাম সাঈদ, ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; আবদুল্লাহ আল মামুন, ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; তানজিলা তাসনিম আভা, ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; মো. কামরুল হাসান, ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; মো: আবির হোসেন, ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; মো. দিদারুল আলম, ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; কাজী আমিনুল ইসলাম, ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; রেশাদ, ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; পুষ্পিতা কুমকুম, ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; সাব্বীর আহমেদ খান, ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; মো: আবির হোসেন, ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; সেলিম সাজ্জেদ, ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; মো. হায়দার আলী সায়েম, ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; আলী রেজা আল আমিন,  ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; মাহমুদ হাসান, ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; মো. শরিফুল ইসলাম, নরফক স্টেট ইউনিভারসিটি, যুক্তরাষ্ট্র; শেখ মো. মাহামুদুল ইসলাম, ইউনিভার্সিটি  অফ  হাওয়াই, যুক্তরাষ্ট্র; মো. মিন্টু মিয়া, ইউনিভারসিটি অফ হাওয়াই, যুক্তরাষ্ট্র; আবদুল মতিন হাওলাদার, ইউনিভারসিটি অফ হাওয়াই, যুক্তরাষ্ট্র; মো. আশরাফুজ্জামান নাহিদ, ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র; ইবরাহীম মিসবাহ,  ইউনিভার্সিটি অফ হিউস্টন, যুক্তরাষ্ট্র; মো. মইন উদ্দিন আতিক, ইউনিভার্সিটি অফ হিউস্টন, যুক্তরাষ্ট্র; মো. শফিকুল  ইসলাম, ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র; মো. সাদিক হাসান, ইউনিভার্সিটি অফ ম্যারিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র; শাহ মোহাম্মদ বাহাউদ্দীন, রাইস ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; সোহেল রানা, ইউনিভার্সিটি অফ নেভাডা রিনো, যুক্তরাষ্ট্র; আলভী মাহমুদ,ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; মোহাম্মদ জাহিদ হাসান,ইউনিভার্সিটি অফ মিসিসিপি, যুক্তরাষ্ট্র; আরিফ মাসরুর, পেনসিলভানিয়া স্টেইট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; আহমদ নাজমুস সাকিব, ইউনিভার্সিটি অফ মিসিসিপি, যুক্তরাষ্ট্র।

Leave a Reply

*

*